Press Release 15-02-2018

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

জনসংযোগ শাখা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ সংক্রান্ত টাস্কফোর্সর সভায় মেয়র

জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণ

আমাকে ভুল বুঝুক তা চাই না

চট্টগ্রাম- ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮খ্রি.

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) মাধ্যমে যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে তার বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। এ নিয়ে জনগণ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে ভুল বুঝুক তা আমি চাই না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খাল সমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সু-স্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। যাতে করে এ কার্যক্রমে কোন ওভারলেপিং না হয়। তিনি আজ সকালে কর্পোরেশনের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খাল সমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ২য় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আজকের সভায় আলোচ্য বিষয় ছিল মহানগরীর প্রাকৃতিক খাল সমূহ হতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, এর দুপাশে বেদখলী সরকারি জায়গা উদ্ধার, খাল সমূহ হতে মাটি উত্তোলন, খাল খনন ও ভরাটকৃত খালের মাটি-আবর্জনা নিস্কাশন করে খাল সমূহে স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখা, অবৈধ দখলদারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন এবং উচ্ছেদকৃত জায়গায় পুনরায় যাতে অবৈধ স্থাপনা নির্মিত না হয় সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং এর ব্যবস্থা ও এর পাশে উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ। অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম,্ এ এইচ এম সোহেল, নাজমুল হক ডিউক, ইসমাইল বালী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ,  চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান,বিভাগীয় কমিশনার প্রতিনিধি হিসেবে সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক এর প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের ভু-সম্পত্তি বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার জিল্লুর রহমান,বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ সচিব ও বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা, চসিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট ও যুগ্ম জেলা জজ জাহানারা ফেরদৌস, উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) শ্যামল কুমার নাথ, চসিক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর এসএসও নিউটন দাস, পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা খন্দকার মো. তাহাজ্জুত আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম নগরী  পাহাড়ী  এলাকা। এই এলাকার ৪৭ শতাংশ পাহাড় বালি মাটির। তাই বৃষ্টি হলে পাহাড়ী বালি বৃষ্টি পানির সাথে ধুয়ে নালা নর্দমা ও খাল ভরাট হয়ে জলযটের সৃস্টি হয়। তিনি সিলট্রেশন বন্ধ করা না গেলে এ সমস্যার সমাধান  টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেন। ইতোমধ্যে আমরা ১৫ টি খাল থেকে মাটি উত্তোলন এর কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও নগরীতে আরো ২২ টি শাখা খাল রয়েছে। সবগুলো খাল পরিষ্কার হলে জলাবদ্ধতার স্থায়িত্ব কমবে। মেয়র খাল সমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে মূল কাজ যেহেতু সিডিএ বাস্তবায়ন করবে, সেহেতু  খালের অবৈধ দখলদার  উচ্ছেদ এর ক্ষেত্রে কিছু আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয় এর সু-স্পষ্ট নির্দেশনা ও চউক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে এ কার্যক্রমের সুফল মিলবে বলে আশা  করা যায়। তিনি আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে খালের মাটি উত্তোলন,অবৈধ দখল উচ্ছেদে সিডিএ কর্তৃপক্ষের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা তা সিডিএ প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এর কাছে জানতে চান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের ভু-সম্পত্তি বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার জিল্লুর রহমান বলেন, অপচনশীল বর্জ্য জলাবদ্ধতার জন্য  দায়ি উল্লেখ করে বলেন  এ ধরনের বর্জ্য ভাটার সময় নদীর তলাতে আটকে থাকে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ¯øুইচ গেট এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সংকটের নিরসন প্রকল্প নিয়েও দ্বিমত পোষন করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ সচিব ও বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা বলেন, নগরীর ১৬ টি খালের পাড়ে রেলের জায়গা রয়েছে তাতে যদি অবৈধ স্থাপনা থাকে তা আমরা উচ্ছেদ করব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা বলেন, সিডিএর প্রকল্পের সাথে আমাদের গৃহীত অনেকগুলো প্রকল্পের ওভারলেপিং আছে যা   আমরা সংশোধন করব। 

 

সড়কবাতি লাগানো ও দুর্যোগকালীন কাজে ব্যবহারের জন্য

চারটি এ্যারিয়াল লিফ্ট কিনলো চসিক

চট্টগ্রাম- ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮খ্রি.

সড়ক বাতি লাগানো,অগ্নি নির্বাপন ও দুর্যোগকালীন সময়ে  ব্যবহারের জন্য ৪ টি এ্যারিয়াল লিফ্ট  কিনেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আজ বিকেলে আন্দরকিল্লা নগর ভবন চত্ত্বরে ফিতা কেটে এই ৪টি এ্যারিয়াল লিফ্ট এর উদ্বোধন করেন। প্রতিটি এ্যারিয়াল লিফ্ট ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় ৪টি এ্যারিয়াল লিফ্ট  ক্রয়ে কর্পোরেশনের ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এই এ্যারিয়াল লিফ্টগুলো দিয়ে নগরীর সড়ক আলোকায়নের জন্য সড়ক বাতি লাগানো, মেরামত, ৪৫ ফুট উচ্চতায় অগ্নি নির্বাপন ও দুর্যোগকালীন সময়ে যে কোন কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে। উদ্বোধনকালে কাউন্সিলর মো. ইসমাইল বালী, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ, নির্বাহী প্রকৌশলী সুদিপ বসাক, জয়সেন বড়ুয়া সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ১১ দিনের একুশে বইমেলা উদ্বোধন

করলেন সিটি মেয়র আ জ ম  নাছির উদ্দীন

চট্টগ্রাম- ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮খ্রি.

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর মুসলিম ইনষ্টিটিউট হল প্রাঙ্গন জুড়ে আয়োজিত এগার দিনের বই মেলা উদ্বোধন করা হয়। আজ বিকেলে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ১১ দিন ব্যাপি বই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সিটি কর্পোরেশনের পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন, পরে মেয়র বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দেন। সিটি কর্পোরেশনের বই মেলায় চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদসহ ঢাকা এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৬০ টি স্টল ও প্রকাশনা সংস্থা বই মেলায় অংশগ্রহন করে। এছাড়াও একুশে স্মারক সম্মাননা পদক প্রদান, সাহিত্যিকদের সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান, চিত্রাংকনসহ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু-কিশোরদের নৃত্যানুষ্ঠান, লোক সঙ্গীত, নাটক, কবিগান, কবিতা ও ছড়া পাঠ, আবৃত্তি ইত্যাদি থাকবে। এ সময় অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক, সদস্য সচিব ও প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিসেস নাজিয়া শিরিন, কাউন্সিলর  মো. সলিমউল্লাহ বাচ্চু, সালেহ আহমদ চৌধুরী, এইচ এম সোহেল, আবিদা আজাদ, জেসমিন সুলতানা জেসি, মনোয়ারা বেগম মনি, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ উমর ফারুক,উপ সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু ও শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান, সিদ্ধার্থ কর সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং চসিকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস ও অমর একুশে বই মেলা ২০১৮ আয়োজন কমিটির আহবায়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক, এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বইমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, এবারের বই মেলায় বিভিন্ন অঞ্চলের খ্যাতিমান প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের মিলনমেলায় পরিনত করা হয়েছে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রকাশক, লেখক, কবি সাহিত্যিকদের অংশগ্রহনে সৃজনশীল আয়োজনে বই মেলাকে পাঠকদের নিকট উপস্থাপন করে বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে। চট্টগ্রামের বই মেলার এই আবেদন দেশেরজেলা উপজেলার গ্রামে গঞ্জে পৌঁছে দেয়া হবে।  তিনি বলেন, বই মনের দরজা খুলে দেয়, কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে, জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করে। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বন্ধ-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন সকলকে বই পড়তে ও কিনতে আগ্রহ সৃষ্টি করার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।  বই এর মাধ্যমে অজানাকে জানা যায়, চিন্তার দরজা খুলে যায়, দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, বই পড়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হওয়া সম্ভব। মেয়র বলেন, নগরবাসীর প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই এই বই মেলার আয়োজন।

এবারের বই মেলা পর্যালোচনা করে ২০১৯ সালে  জাতীয় গ্রন্থ মেলার আদলে বৃহৎ পরিসরে বই মেলার আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রান দিয়ে ভালবাসতে হবে এবং প্রমিত বাংলা ভাষার চর্চা করতে হবে। মেয়র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পুরষ্কার বিতরনীতে বই মেলায় প্রকাশিত লেখকদের মান সম্পন্ন বই পুরষ্কার হিসেবে প্রদানের ঘোষনা দেন।  উদ্বোধন শেষে মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু সম্পাদিত একজন রফিক আনোয়ার”, বলাকা প্রকাশনীর শামসুল হক হায়দরীর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ভাষায় রচিততোতা পাখির দিস্তানউপন্যাস, মৃনাল কান্তি বড়ুয়ার মুঠো ভরা ভাবনাগল্প সংকলন, গোফরান উদ্দিন টিটুর বই পড়ুয়া কাকাতুয়াতরুন লেখক রুহু রাহেল এর শব্দের কারুকাসহ বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থার বই এর মোড়ক উম্মোচন করেন মেয়র। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অমর একুশের সঙ্গীত পরিবেশন করেন ইউএসটিসির বিদেশী শিক্ষার্থীরা।

 

সংবাদদাতা

(আফিয়া আখতার)

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও

ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।